মো: নুরজামাল শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই থানার সামনে থেকে আবারও অপহরণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযানে ছয় জনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নড়িয়া উপজেলার ডা. খন্দকার কে. এ. জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গত ২ জুলাই দুপুরে স্কুলে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হয়। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা ছাত্তার চৌকিদার বাদী হয়ে নড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তার বাবা-মায়ের জিম্মায় হস্তান্তর করে। তবে থানা থেকে বের হওয়ার সময় থানার গেটসংলগ্ন এলাকায় অভিযুক্তরা পুনরায় ওই ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

এ সময় পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করেন এবং ঘটনাস্থল থেকেই ছয়জনকে আটক করেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা ছাত্তার চৌকিদার বলেন, “আমার মেয়েকে স্কুলে যাওয়ার পথে তুলে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু থানা থেকে বের হওয়ার পর আবারও আমার মেয়েকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে আমার মেয়েকে আবারও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, “উদ্ধারকৃত ছাত্রীকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়ার পর আসামিরা পুনরায় তাকে অপহরণের চেষ্টা করে। আমাদের পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ায় ছাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও দ্রুত বিচার আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

আটককৃতরা হলেন— সাহিদুল ইসলাম রাড়ী (১৯), তানভীর সরদার (২৯), সাব্বির মুন্সী (১৮), রাকিব হাওলাদার (১৬), সিফাত মৃধা (২০) ও সিয়াম খাঁন (২৪)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে তাদেরকে অপহরণ মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।