মো. নুরজামাল শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে ৮৭ নং আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত ও অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক আলী আসাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আচরণগত বিতর্কের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক নারী-সংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এদিকে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের কাছে নিজের পারিবারিক জীবনের দুর্দশার কথা তুলে ধরে দাবি করেন, তিনি দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস ধরে নানা ষড়যন্ত্র ও হয়রানির শিকার হয়ে সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে বিভিন্নভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার জেরে তাঁর সংসার ভেঙে গেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বিরোধের কারণে আমাকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পার্শ্ববর্তী একটি বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন অপপ্রচার ও চক্রান্তের মাধ্যমে গত ২৭ তারিখ আমার ডেপুটেশন বাতিল করে আবার বর্তমান কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা হয়।”
নিজের বর্তমান অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমি সন্তানদের নিয়ে চরম কষ্টে জীবনযাপন করছি। সংসার ভেঙে যাওয়ার পর থেকে মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। অনেক সময় খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীরাও বিদ্যালয়ে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানায়।
বক্তারা আরও বলেন, মো. আলী আসাদ এর আগে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান তারা।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।