মোঃ মিজানুর রহমান কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের বহুল আলোচিত শিক্ষিকা আতিয়া জাহান মৌ (মৌসুমী) হত্যা মামলার রায়ে প্রধান আসামি ইউসুফ হায়দার রিফাতকে (৩৬) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইউসুফ হায়দার রিফাত কিশোরগঞ্জ শহরের খরমপট্টি এলাকার নাসির উদ্দিন হারুনের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় মামলার পাঁচ আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৬ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার মধ্যে যেকোনো সময় কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বত্রিশ এলাকার নিজ বাসায় শিক্ষিকা আতিয়া জাহান মৌসুমীকে হত্যা করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পর নিহতের মা কবিতা আক্তার কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা তিনজনকে সন্দেহভাজন আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ইউসুফ হায়দার রিফাতসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, আলামত উপস্থাপন এবং রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আজ মঙ্গলবার আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে অভিযোগপত্রভুক্ত পাঁচ আসামির মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়।
তবে প্রধান আসামি ইউসুফ হায়দার রিফাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।