নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো: মুশফিকুর রহমান তুহিন
(নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল): জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার অংশ হিসেবে বিক্ষিপ্তভাবে থাকা কিছু বৃক্ষ একস্থান হতে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কতিপয় ব্যক্তি ভুলভাবে এর অপব্যাখ্যা করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বৃক্ষ নিধনের কথা বলা হচ্ছে। অথচ বৃক্ষ নিধন আর বৃক্ষ স্থানান্তর সম্পূর্ণ বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে। সুতরাং মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে কিছু ব্যক্তি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত প্রয়োজনের অংশ হিসেবে একটি গাছও কাটা হয় নি, বরং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেগুলো মাটি ও শিকড়সহ সতর্কতার সাথে উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থানান্তরিত গাছগুলো যাতে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার নীতিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে বৃক্ষরোপণ, সবুজায়ন এবং পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। এছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া আগামী ৫বছরে (২০২৬-২০৩০পর্যন্ত) ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মাহাবুবুর রহমান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর মাননীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ এবং বিশিষ্ট উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। সংশ্লিষ্ট কাজে প্রকৌশলী, নগর পরিকল্পনাবিদ ও উদ্যানতত্ত্ববিদদেরকে নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করা হয়েছে এবং তাঁদের দিকনির্দেশনায় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আরও সুন্দর ও পরিকল্পিতভাবে অর্থাৎ মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী বাস্তবায়নের কাজ করছি। এক্ষেত্রে বিক্ষিপ্তভাবে থাকা কিছু গাছ সরিয়ে অন্যত্র লাগানো হয়েছে। গাছগুলোকে কোনভাবেই নিধন করা হয় নি। বরং গাছগুলো সরিয়ে লাগানোর পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে আরও নতুন নতুন এবং বড় বড় গাছের চারা রোপণের কাজ অব্যাহত আছে।’ তাছাড়া পরিকল্পিত বৃক্ষ রোপণের জন্য একটা বড় অংকের সরকারী অনুদান ইতোমধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে যা এই অর্থবছরের মধ্যেই যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যয় করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
উল্লেখ্য ভুল তথ্য প্রচার করা দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৭৭ও ১৮২ মোতাবেক একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেউ ভুল তথ্য প্রদান করলে কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। এছাড়া দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারনুযায়ী তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এ ভিত্তিহীন তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশের জন্য ন্যূনতম ২ বছর থেকে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভুল তথ্য প্রচার না করে, সঠিক তথ্য প্রচারের আহ্বান জানান এবং সকলকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।