মোঃ মিজানুর রহমান কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে এক সেকেন্ডও দেরি না করে ফাঁসি কার্যকর করা হবে বলে বলেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশে এখনও অনেক মুজিবপ্রেমী পক্ষ ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আছেন, যারা স্বপ্ন দেখেন, ডিসেম্বরে নাকি তাদের আপা আসবেন। কিন্তু আপা কোথায় আসবেন? আপা তো হেলিকপ্টারে করে চলে গেছেন। বাংলাদেশে তার আর ফেরার কোনো জায়গা নেই।
“তিনি যেখানেই নামবেন, সেখানেই জনগণ তাকে ধরে বিচারের রায় কার্যকর করবে। বাংলাদেশে হাজার হাজার জায়গায় ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত আছে। দেশের সব জায়গায় জনগণের মাঝে সেই প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি যেখানেই নামবেন, সঙ্গে সঙ্গেই তার ফাঁসি কার্যকর করা হবে। এক সেকেন্ডও দেরি করা হবে না।”
‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসাবে সোমবার ২৭ জুলাই বিকালে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় এনসিপির সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপি নেতা বলেন, “ভারত চায় বাংলাদেশের যুব সমাজ ইয়াবা, ফেনসিডিলের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকুক। তাই তারা মাদকে আমাদের দেশ সয়লাব করে দিচ্ছে। তারা মাদক দিয়ে আমাদের যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিতে চায়। আমাদের দেশের বাজার দখল করতে চায়।
“বিএনপির বড় বড় নেতার গাড়িতেও মাদক পাওয়া যায়। আমরা সরকারকে বলতে চাই, প্রথমে যারা সংসদ সদস্য আছেন, সংসদে প্রবেশের আগে তাদের ডোপ টেস্ট করতে হবে। আগে সেখান থেকে শুরু হওয়া দরকার। সংসদের অধিকাংশ সংসদ সদস্য মাদক চোরাচালানসহ ইয়াবা ও ফেনসিডিল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমরা সরকারকে বলব, মাদক থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে হবে।”
সভায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, “বিএনপি সরকার সবকিছু দলীয়করণ করছে। সরকারের যত সুযোগ-সুবিধা যারা ধানের শীষে ভোট দেয়, তাদের দেওয়া হচ্ছে। অন্যরা বঞ্চিত হচ্ছে। সবকিছু যদি দলীয়করণ হয়ে যায় তাহলে বিএনপির নাম থেকে তাদের জাতীয়তাবাদী শব্দটা বাদ দিয়ে দিতে হবে। বিএনপির বর্তমান স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বাদ দিয়ে দিতে হবে ‘সবার আগে বিএনপি’। তারা দেশবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করছে। এ প্রতারণার ফল তাদের ভোগ করতে হবে।”
তাড়াইলের সমাবেশের পরে রাতে এনসিপি নেতারা করিমগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ সদরে সমাবেশ করেছেন।
সমাবেশে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরাম হোসেন, ফয়সাল প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন।