মোঃ সোহেল রানা, নিজস্ব প্রতিনিধি
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর কুর্শা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানপাড়ায় দোকানের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ দুইজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দিনমজুর মো. ফজলে ইসলাম (৫৫)-এর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। স্থানীয়দের দাবি, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত ফজলে ইসলাম ওই এলাকার বফির উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়দানপাড়ার মোছা. দয়া বেগম ও মো. ফকির ইসলামের দোকানে ফজলে ইসলামের ময়দা কেনা বাব ১০০ টাকা বাকি ছিল বলে দাবি করা হয়। তবে ফজলে ইসলামের দাবি, উল্টো ওই দোকানই তার কাছে ৮০ টাকা পাওনা ছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে মোছা. দয়া বেগম, মো. ফকির ইসলাম এবং তাদের ছেলে মো. আকরাম খান মিলে ফজলে ইসলামকে মারধর করেন। এ সময় বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ছেলে মো. সারোয়ানকেও মারধর করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হামলায় ফজলে ইসলাম ও তার ছেলে সারোয়ানের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ফজলে ইসলামকে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় ময়দানপাড়া, মুন্সিপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দোকানটিকে ঘিরে অতীতেও বিভিন্ন বিতর্ক ছিল। তাদের দাবি, দোকানটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় মাদক সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এবং দোকানের আশপাশে জুয়ার আসর বসার অভিযোগও একাধিকবার উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য মেলেনি।
ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।