বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে বাড়ির আঙিনায় রহস্যজনক বোমা বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর শরীরে আগুন ধরে গেলে প্রাণ বাঁচাতে তারা পাশের পায়রা নদীতে ঝাঁপ দেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভরপাশা ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে মৃত শাহা আলম হাওলাদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন শাহা আলম হাওলাদারের স্ত্রী হনুফা বেগম (৬০), ছোট মেয়ে ইতি আক্তার (১৯) এবং মেজো মেয়ের ছেলে ফাহিম (১৪)।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পরিত্যক্ত লাকড়ি রাখার ঘরের এক কোণে রাখা একটি বোমা হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। এ সময় বাড়ির উঠানে হাঁটাহাঁটি করছিলেন হনুফা বেগম, তার মেয়ে ও নাতি। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আগুনে তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। প্রাণ বাঁচাতে তারা বাড়ির পাশের পায়রা নদীতে ঝাঁপ দেন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তারিকুল জানান, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে দগ্ধের ক্ষত রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, দুধলমৌ গ্রামে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে বোমাটি সেখানে রেখে গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলাউল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঢাকার বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এটি কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল এবং কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানাতে পারবে।