নিজস্ব প্রতিনিধি
- শিক্ষকতা পেশার আড়ালে গৃহস্থালি জিম্মিদশা, সুপরিকল্পিত মানসিক নিপীড়ন এবং অবশেষে বৈবাহিক সম্পর্কচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া শুরুর পর মনগড়া অপপ্রচারের এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সবুজবাগ সরকারি কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান পেশায় একজন সরকারি প্রকৌশলী।
দীর্ঘদিনের নীরবে সহ্য করা নির্যাতন, শ্বশুরালয়ে গৃহবন্দি করে রাখার মতো পরিস্থিতি এবং বারবার ডিভোর্সের হুমকির মুখে অবশেষে নিজের জীবন ও আত্মসম্মান রক্ষায় আইনানুগভাবে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন ওই প্রকৌশলী।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ডিভোর্স নোটিশ পাওয়ার পর নিজের অপরাধ ঢাকতে ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সহযোগী অধ্যাপক জেসমিন আক্তার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকৌশলী স্বামী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
সুপরিকল্পিত জিম্মিদশা ও অমানবিক নিপীড়ন
প্রাপ্ত তথ্য ও অনুসন্ধানে জানা যায়, দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকেই শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার তার স্বামী প্রকৌশলী বদরুল আলম খানকে নিজের বাবার বাড়িতে বসবাস করতে বাধ্য করেন। একজন পেশাজীবী প্রকৌশলীকে স্বাভাবিক বৈবাহিক ও স্বাধীন জীবনযাপন থেকে বঞ্চিত করে একপ্রকার মানসিক ও সামাজিক জিম্মিদশায় রাখা হয়। সেখানে তাকে চরম অবহেলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশে দিনাতিপাত করতে বাধ্য করার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষ্যসূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রকৌশলী বদরুল আলমের ওপর চলা এই ধারাবাহিক মানসিক টর্চার এবং দফায় দফায় ডিভোর্সের চাপ দেওয়ার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। স্বস্তি ও নিরাপত্তার তাগিদে প্রকৌশলী বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিলে বিষয়টি অন্য মোড় নেয়।
আইনি পদক্ষেপ ঢাকতে অপপ্রচারের ‘ভিকটিম কার্ড’
‘ডিভোর্স নোটিশ পাওয়ার পরপরই’ অভিযুক্ত শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার নিজের দায় এড়াতে এবং সামাজিক সুবিধা হাসিলের লক্ষ্যে উল্টো ভিকটিম সেজে গণমাধ্যমে মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। তথাকথিত সামাজিক মর্যাদা রক্ষা ও ভুক্তভোগীকে হেনস্তা করতেই এই অপপ্রচারের কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
পুরুষ নির্যাতন ও সামাজিক অপপ্রচারের শিকার প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান জানান, “একটি সুস্থ সমাজ ও আইনি কাঠামোর চরম অপব্যবহার করে আমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হচ্ছে। আইনি বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরুর পরও মিথ্যাচার চালিয়ে আমার পেশাগত ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যে চক্রান্ত চলছে, তা স্পষ্টত
পুরুষ নির্যাতনের শামিল।”
উক্ত ঘটনার সত্যতা, জিম্মিদশার অভিযোগ এবং নোটিশ-পরবর্তী অপপ্রচারের বিষয়ে সবুজবাগ সরকারি কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জেসমিন আক্তারের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তার সুনির্দিষ্ট মন্তব্য জানার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।