স্টাফ রিপোর্টার, জিয়াউল হক
বরিশাল অঞ্চলে ফের আলোচনায় এসেছেন খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এর আগে ২০২০ সালে বরগুনা সদর খাদ্য গুদাম থেকে চাল চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এবং সম্প্রতি ঝালকাঠি এলএসডিতে কৃষকদের হয়রানি, ঘুষ গ্রহণ ও ধান-চাল ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগে স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়ার ঘটনায় তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ৮ জুন গভীর রাতে বরগুনা সদর খাদ্য গুদাম থেকে চাল চুরির সময় তৎকালীন খাদ্য পরিদর্শক ও গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অন্যদের মধ্যে ছিলেন গুদামের নৈশপ্রহরী, সুইপার ও গাড়িচালকসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। ওই ঘটনার পর থেকেই খাদ্য বিভাগের এই কর্মকর্তাকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে।
সর্বশেষ ঝালকাঠি গ্রেড-১ এলএসডিতে সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে কৃষকদের হয়রানি, বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত টাকা দাবি, ঘুষ গ্রহণ এবং ধান-চাল ক্রয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান দিতে গেলে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হতো। এমনকি কার্ডপ্রতি হাজার হাজার টাকা ঘুষ না দিলে কৃষকদের কাছ থেকে ধান নেওয়া হতো না। এছাড়া ৪০ কেজির নির্ধারিত ওজনের পরিবর্তে ৪২ কেজি করে ধান নেওয়া এবং নিম্নমানের চাল গুদামজাত করার অভিযোগও ওঠে।
এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ঝালকাঠি গ্রেড-১ এলএসডি খাদ্যগুদাম আকস্মিক পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় কৃষকরা তার কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগগুলো শুনে তিনি কৃষক ও সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলে জানান।
এরপর প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ঝালকাঠি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয়। খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের ৯ আগস্ট জারি করা এক আদেশে তাকে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে বদলি করা হয়েছে। আদেশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্মবিমুক্ত বলে গণ্য হবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতে চাল চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার এবং বর্তমানে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগে বদলির ঘটনা সামনে আসায় বরিশাল বিভাগের খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।