নিজস্ব সংবাদদাতা বাকেরগঞ্জ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের পূর্ব বাদল পাড়া ও দক্ষিণ কাটাদিয়া দুই গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া পোয়ারি বাড়ি খেলের উপর সরকারি অর্থায়নে নির্মিত কালভার্ট থাকলেও দু’পাশে নেই সংযোগ সড়ক। ফলে কালভার্টটি বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে আছে, আর এখন দুই গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে কালভার্টের উপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৫ সালে এলজিইডির আওতায় খালের ওপর কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়। কয়েক বছর যেতে না যেতেই কালভার্টের দুই পাশে সংযোগ সড়ক খালের জোয়ারের পানিতে ভেঙে যায়। এরপর থেকে প্রায় ২০ বছর পার হলেও কালভার্টের দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেনি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়রা চলাচলের জন্য কালভার্টের উপরে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। এখন নিরুপায় হয়ে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পারাপার হচ্ছে।

বাদল পাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিক বলেন, কালভার্ট বানাইছে ঠিকই, কিন্তু রাস্তা না থাকায় কোনো কাজে আসছে না। বর্ষাকালে বাঁশের সাঁকো ভিজে পিচ্ছিল হয়ে যায়, তখন চলাচল খুবই বিপজ্জনক। এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে পড়ে গিয়ে এক বৃদ্ধ মৃত্যু বরণ করেছে। এই অবস্থায় ২০ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের কোন নজর নেই।

স্থানীয় নারী রেহেনা বেগম জানান, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই স্কুলে যায় সাঁকো পার হয়ে। অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিতে গেলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটে।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর। দ্রুত কালভার্টের দু’পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

চরামদ্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন খোকন জানান, বিষয়টি একাধিকবার এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা এখন পর্যন্ত কোন কার্যকারী ব্যবস্থা নেয়নি।

উপজেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো: হাসনাইন আহমেদ জানান, কালভার্টের সংযোগ সড়ক নেই বিষয়টি ইতিমধ্যে জেনেছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।