পরকীয়ার অহেতুক সন্দেহে ঢাকার খিলগাঁওয়ে মুক্তা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার খিলগাঁও এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুক্তা আক্তার বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম সরসী গ্রামের মৃত নিজাম হাওলাদারের মেজো মেয়ে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন।
​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জের ৩নং দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের উত্তর কাজলাকাঠি গ্রামের আলতু শিকদারের ছেলে সোহেল শিকদারের সঙ্গে মুক্তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সোহেল নানা অহেতুক বাহানায় স্ত্রীর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ২ সেপ্টেম্বর রাতে সোহেল পরিকল্পিতভাবে মুক্তাকে বেদম মারধর করেন। নির্মম এই মারধরের সময় ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও তারা জানান। একপর্যায়ে পিটিয়ে হত্যার পর ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালান ঘাতক স্বামী।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে ঢাকার খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী সোহেল শিকদারকে আটক করে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে শুক্রবার জুমা নামাজের পর বাবার বাড়ি পশ্চিম সরসী গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
​ঘটনার বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার সরসী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) আব্দুস সালাম জানান, “ঘটনাটি আমি শুনেছি। নিহতের স্বামীকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য এবং সার্বিক তদন্তের স্বার্থে ওই বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।”
​দুধল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম শোক প্রকাশ করে বলেন, “মেয়েটি আমার চোখের সামনে বড় হয়েছে, অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও পর্দানশীন একটি মেয়ে ছিল। তাছাড়া আমার বড় ভাইয়ের মেয়ের ক্লাসমেট। এই পাষণ্ড স্বামী সোহেল শিকদারের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।” অমানুষিক এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়রা অবিলম্বে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।