জৈন্তাপুর সিলেট প্রতিনিধি: মুক্তাদির আল সেলিম
বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নদী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারী নদী বাঁচাও আন্দোলন এবং উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি জৈন্তাপুর-এর যৌথ উদ্যোগে জৈন্তাপুরে এক ব্যতিক্রমধর্মী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি (চারুকলা বিভাগ) এর শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতার মূল বিষয় ছিল পরিবেশ সংরক্ষণ, নদী রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকার। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের রঙ-তুলির ছোঁয়ায় সারী নদীর অপরূপ সৌন্দর্য, নদী দখল ও দূষণের ভয়াবহতা এবং পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব অত্যন্ত সৃজনশীলভাবে তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে বক্তারা বলেন, সারী নদী শুধু একটি নদী নয়, এটি জৈন্তাপুর অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নদীকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ ধরনের কর্মসূচি পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা আরও বলেন, নদী দূষণ, অবৈধ দখল, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং পরিবেশ ধ্বংসের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, বরং সমাজের প্রতিটি মানুষের। নতুন প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব চিন্তা ও কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করতে সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল আয়োজনের বিকল্প নেই।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকমণ্ডলী অংশগ্রহণকারীদের আঁকা ছবি মূল্যায়ন করে বিজয়ীদের নির্বাচন করেন। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সকল অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহ প্রদান করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কাবেরি ভট্টাচায, শিক্ষক সাব্বির আহমদ, চারুকলা বিভাগের প্রশিক্ষক ও
সারী নদি বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক হোসেন মিয়া, প্রশিক্ষক রেজাউল ইসলাম রাজা সহ অভিবাবকবৃন্দ।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও সারী নদী রক্ষা এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, অভিভাবক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, পরিবেশকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এই আয়োজনের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সারী নদী রক্ষার দাবিও নতুন করে উচ্চারিত হয়েছে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও সৃজনশীল কর্মযজ্ঞে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও সফল হয়ে ওঠে।