নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়নের ডুবি গ্রামে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছিল এক উৎসবমুখর পরিবেশ। ঢাক-ঢোলের বাদ্যি, মাঝিদের রণহুংকার আর শত শত বৈঠার ছন্দে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রাণ ফিরে পায় ডুবি নদী। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা এই লোকজ সংস্কৃতি দেখতে নদীর দুই পাড়ে সমাগম ঘটে প্রায় ১০ হাজার উৎসুক জনতার।

​শুক্রবার বিকেলে ডুবি হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে ডুবি রেজাউল কবির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত নদীপথে এই জমজমাট নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
​প্রতিযোগিতায় পিরোজপুর ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা মোট ৩৬টি নৌকা অংশ নেয়। বৈঠার তালে তালে নদী বক্ষ চিরে একে অপরকে পেছনে ফেলার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেতে ওঠেন প্রতিযোগীরা। নদীর দুই তীরে থাকা হাজার হাজার নারী, পুরুষ ও শিশু হাততালি এবং আনন্দ-উল্লাসে মাতিয়ে তোলেন পুরো এলাকা। সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে নদীর পাড়ে ভিড় জমাতে শুরু করেন।
​প্রতিযোগিতা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক এবং নেছারাবাদ উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মিয়ার পরিচালনায় এ আয়োজনে আবু জাফরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সহযোগিতা করেন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শিল্প ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম বিপ্লব এবং দৈনিক ইনকিলাবের নেছারাবাদ উপজেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।
​আয়োজকরা জানান, অংশ নেওয়া ৩৬টি নৌকার জন্য সাধারণ পুরস্কারের ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া প্রথম স্থান অর্জনকারী দলের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ আকর্ষণীয় পুরস্কার।
​নৌকাবাইচকে গ্রামবাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে আয়োজকরা বলেন, আধুনিকতার চাপে লোকজ অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও নৌকাবাইচ এখনো মানুষের অন্তরে বিশেষ জায়গা জুড়ে আছে। তরুণ প্রজন্মকে এই শিকড়ের সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রতি বছরই এমন আয়োজন ধারাবাহিক রাখা প্রয়োজন।