নাজমুল হক, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

গাছ লাগানো ও পরিচর্যা যার নেশায় পরিণত হয়েছে, তিনি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ডিগ্রি কলেজের সফল অধ্যক্ষ এবং রাইগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান আরিফ। পরিবেশ রক্ষায় নিরলস কাজের কারণে তিনি এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন ‘সবুজের ফেরিওয়ালা’ এবং ‘সবুজ বিপ্লবী’ হিসেবে।

ছোটবেলা থেকেই বৃক্ষের প্রতি ছিল তার গভীর অনুরাগ। শখের বশে বন্ধুদের নিয়ে নিজ এলাকায় কয়েক হাজার তালবীজ রোপণ করেছিলেন। সেই উদ্যোগের ফলেই বর্তমানে গড়ে উঠেছে ‘শহরাই তালপার্ক’, যা স্থানীয়দের কাছে একটি পরিচিত নাম। শুধু তালগাছই নয়, তিনি এলাকার বিভিন্ন রাস্তার পাশে হাজার হাজার তালবীজ রোপণ করেছেন।
নিজ অর্থায়নে রাইগাঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন ধর্মীয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, রাস্তার দুই পাশ এবং খাসজমিতে ফলদ, বনজ, ঔষধি ও ফুলের গাছ লাগিয়েছেন। এছাড়া মহাদেবপুর ও বদলগাছী উপজেলাসহ নওগাঁ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দর্শনীয় স্থানে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ করে চলেছেন।
বৃক্ষপ্রেমী এই মানুষটি যেখানেই যান, সেখানেই অন্তত কয়েকটি গাছ রোপণের চেষ্টা করেন। তার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়েছে সান্তাহার রেলস্টেশন, আক্কেলপুর রেলস্টেশন, রাজশাহী, চলনবিল, ছাতরা বিল, হাসাইগাড়ি বিল, পাহাড়পুর, হলুদ বিহার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে ডাবরকুড়ি থেকে পয়নরী পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তার দুই ধারে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, পলাশ, শিমুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল ও বনজ গাছ রোপণ করেছেন। তিনি এই সবুজ সড়কের নাম দিয়েছেন “আরিফ কৃষ্ণচূড়া ভ্যালি”। এছাড়াও মহাদেবপুর ও বদলগাছী উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ করেছেন।
শুধু শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি বা পরিবেশকর্মী হিসেবেই নয়, অধ্যক্ষ আরিফ একজন গুণী কবি হিসেবেও পরিচিত। তার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত।
অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বলেন,৯ “কোনো দিন যদি বৃক্ষরোপণ বা গাছের পরিচর্যা না করি, তাহলে মনের মধ্যে অস্থিরতা কাজ করে। গাছগুলোকে আমার সন্তানের মতো মনে হয়। গাছের সঙ্গে আমার এক ধরনের আত্মিক সম্পর্ক ও অকৃত্রিম ভালোবাসা তৈরি হয়েছে।”
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অত্যন্ত ভদ্র, সাদাসিধে ও মিশুক স্বভাবের এই মানুষটি একজন আদর্শ শিক্ষক, জনপ্রিয় নেতা, কবি এবং সমাজসেবক হিসেবে সর্বজনগ্রাহ্য। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫১ হাজার গাছ রোপণ করেছেন বলে জানা গেছে।
পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রত্যেক মানুষ অন্তত তিনটি করে গাছ লাগালে দেশ আরও সবুজ ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।”