জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ দাবি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। তবে তার নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের ১০ বছর পর তার জন্ম হয়েছে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে তার বাবা ও মা দুজনেই বর্তমানে জীবিত আছেন।

নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের এই সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে ব্যাপক হাস্যরস ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত রোববার সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আব্দুল মুনতাকিম তার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা থাকার দাবি করেন। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।’

সংসদ সদস্যের দেওয়া এই তথ্যের সঙ্গে তার নির্বাচনী হলফনামা ও বাস্তবতার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় হলফনামায় তার বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। সেই অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি, যা মহান মুক্তিযুদ্ধের (১৯৭১) প্রায় ১০ বছর পর।

স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, এমপি মুনতাকিমের বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম এখনো বেঁচে আছেন। তারা সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে ছেলের সঙ্গেই বসবাস করছেন। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে আব্দুল মুনতাকিম সৈয়দপুর আল ফারুক একাডেমিতে শিক্ষকতা করতেন। ছোটবেলায় হাফেজ হওয়ার পাশাপাশি তিনি সাধারণ শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

এই বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভুল তথ্য ও শব্দ উচ্চারিত হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ তিনি জানান, সংসদের রেকর্ড থেকে এই ভুল তথ্যটি এক্সপাঞ্জ (প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক সংশোধন) করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

এদিকে, সংসদ সদস্যের এই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা মুখ ফসকে হওয়া ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সংসদ সদস্য দ্রুতই নির্বাচনী এলাকায় ফিরে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সামনে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেবেন।