দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় দলীয় অন্তত ছয় সংসদ সদস্যের (এমপি) বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
বেফাঁস মন্তব্য থেকে ভাইরাল ভিডিও: নানা ঘটনায় জর্জরিত পাঁচ মাস
সংসদের ভেতরে-বাইরে দলীয় এমপিদের বিতর্কিত মন্তব্য, ব্যক্তিগত সহকারীদের (পিএস) অনিয়ম এবং সর্বশেষ এক এমপির ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় দলটির জনইমেজে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
এসব ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে জামায়াত জোটের সংসদীয় সমন্বয়কারী ও দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, “ছয়টি নয়, এরকম দুই-তিনটি ঘটনা আছে। তবে কেউ অন্যায় করলে আমরা ছাড় দেব না। কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডও প্রশ্রয় দেব না।”
‘নাস্তিক’ বিতর্ক: আমির হামজার মামলার জটিলতা
গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে এক আলোচনায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেন। এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির কর্নেল এবং সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভিপি শামীম খান পৃথক মানহানির মামলা দায়ের করেন। নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় ২১ এপ্রিল আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে ১৪ জুন স্থায়ী জামিন পান তিনি।
এ বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “বক্তব্য কারও পক্ষে কিংবা কারও বিপক্ষে যেতে পারে, এটা স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখি আমরা। গত ১৭ বছর আমাদের কথা বলা স্বাধীনতা ছিল না। এখন আমরা কথা বলার সুযোগ পেয়েছি।”
বাজেট বক্তব্যে জটিলতা: আমির হামজার ‘ছয় হাজার কোটি’ কাণ্ড
বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন ৭ জুন সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আমির হামজা বলেন, বাজেট ২০০ কোটি টাকা হওয়া উচিত। আবারও তিনি বলেন, বাজেট ছয় হাজার কোটি টাকা হওয়া উচিত। অথচ এবারের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। পরে তিনি জানান, তিনি ছয় লাখ কোটি টাকা বলতে চেয়েছিলেন, মুখ ফসকে ছয় হাজার কোটি বলে ফেলেছেন। এই বক্তব্যেও অস্বস্তিতে পড়ে জামায়াত নেতৃত্ব।
পর্দা-ওয়াশিং মেশিন দাবি: মিজানুর রহমানের অস্বস্তিকর বক্তৃতা
গত ১৭ জুন সংসদে দেওয়া বাজেট বক্তৃতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য মু. মিজানুর রহমান এমপিদের সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও জানালার পর্দা চেয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেন। তিনি বলেন, “আমরা বাজেটের ওপর কথা বলছি। কিন্তু সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটগুলোতে জানালা-দরজার পর্দাগুলো এখনও ঝোলানো হয়নি। আমরা শুনেছিলাম, এই ফ্ল্যাটগুলোতে একটি করে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন দেওয়া হবে।”
এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ টিপ্পনী কাটেন, “আমি জামায়াত এমপিকে ওভেন দিতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে ওয়াশিং মেশিন দেওয়া হলে সংসার সাজিয়ে দেওয়া হবে।”
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক: আব্দুল মুনতাকিমের ভুল বক্তব্য
গত ১৪ জুন নীলফামারী-৪ আসনের জামায়াত ইসলামীর এমপি আব্দুল মুনতাকিম বাজেট আলোচনায় দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর পরিবারের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমার বাবা, আমার দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচা) সাত ভাই; চারজনই মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন; ১১ জনই মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা।
মন্তব্য করুন