বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি-
বাকেরগঞ্জ ৬ আসনের মাননীয় এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা জনাব আবুল হোসেন খান এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে
রুপালি পর্দার ‘ফাটাকেষ্ট’র মতোই যেন একের পর এক ঝটিকা অ্যাকশনে কাঁপছে বাকেরগঞ্জের অপরাধ জগৎ। কোনো রকম আপস না করে উপজেলার নদী-নালা, ফসলি জমি থেকে শুরু করে গভীর রাতে মাদকের আস্তানা—সবখানেই হানা দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিল্টন চন্দ্র পাল এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্রোজ্যতি বড়াল।
অপরাধ দমনে তাদের এই অনমনীয় ও আপসহীন ভূমিকার কারণে ইতিমধ্যেই পুরো উপজেলায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বাকেরগঞ্জে পরিচালিত প্রশাসনের এমনই কিছু চোখধাঁধানো ও সাঁড়াশি অভিযানের বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
কারখানায় নদীর মা ইলিশ রক্ষায় মহাযুদ্ধ: ৮০ হাজার মিটার জাল ভস্মীভূতজাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় কোনো প্রকার ছাড় দিতে রাজি নয় বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। মা ইলিশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন কারখানা নদীতে একটি বিশাল ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নদী থেকে প্রায় ৮০,০০০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত এই বিশাল জালের স্তূপ জনসম্মুখেই আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক অ্যাকশন নদীপাড়ের সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
কলসকাঠিতে মাটিখেকোদের আস্তানায় হানা: ১ লাখ টাকা জরিমানাগত ০২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে উপজেলার কলসকাঠি এলাকায় ফসলি জমি ধ্বংস করে অবৈধ উপায়ে মাটি কাটার গোপন খবর আসে প্রশাসনের কাছে। খবর পাওয়ামাত্রই বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস টিমকে সাথে নিয়ে গরিবের রক্ষাকবচ হিসেবে হাজির হন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব অভ্র জ্যোতি বড়াল। মোবাইল কোর্টের এই তাৎক্ষণিক অভিযানে ফসলি জমির মাটি কাটার অপরাধে হাতেনাতে একজনকে আটক করা হয় এবং তাকে ০১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
মধ্যরাতে মাদকের আস্তানায় কমান্ডো স্টাইলের অ্যাকশন: ২ জনের কারাদণ্ড আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন কতটা কঠোর, তার প্রমাণ মিলল গত ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের এক মধ্যরাতের অভিযানে। রাত ঠিক ১২:৩০ মিনিটে বাকেরগঞ্জ পৌরসভায় আচমকা হানা দেয় মোবাইল কোর্ট। সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব অভ্র জ্যোতি বড়ালের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজা সেবনরত অবস্থায় দুই মাদকসেবীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। কোনো প্রকার সময় নষ্ট না করে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে সরাসরি জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ডেঙ্গু রুখতে শহরের অলিতে-গলিতে লার্ভাসাইড অপারেশনশুধু অপরাধ দমনই নয়, জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষাতেও ফ্রন্টলাইনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাকেরগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন। ডেঙ্গুর প্রকোপ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আজ পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চালানো হয়েছে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান। বিশেষ করে , বাকেরগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড পল্লী বিদ্যুৎ অফিস, চৌমাথা বাজার এবং পৌরসভার পেছনের সংলগ্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও লার্ভাসাইড স্প্রে করা হয়।
জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া:উপজেলার সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এই ‘ফাটাকেষ্ট’ রূপী অ্যাকশনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের এমন ঝটিকা অভিযানের কারণে বাকেরগঞ্জে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকটাই থমকে এসেছে। অপরাধ দমনে প্রশাসনের এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সচেতন মহল।
এদিকে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আদিল হোসেনের একের পর এক ঘুষ বাণিজ্য, ও মামলা গ্রহণের গরিমষি ভূমিকা আইনের সুশাসনকে যেমন বাধাগ্রস্ত করছেন। তেমনি বাকেরগঞ্জ ৬ আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা জনাব আবুল হোসেন খান এর স্বপ্ন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত বাকেরগঞ্জ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন ।
মন্তব্য করুন