মোঃ আতাউল্লাহ আরীফী
দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। উচ্চশিক্ষা শেষ করেও অনেক তরুণ-তরুণী চাকরি না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন। একদিকে চাকরির সীমিত সুযোগ, অন্যদিকে দক্ষতার ঘাটতি—সব মিলিয়ে বেকারত্ব এখন দেশের অন্যতম বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষা জীবন শেষ করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করলেও সেই তুলনায় নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। ফলে দীর্ঘদিন চাকরি না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন, কেউ কেউ বিদেশমুখী হচ্ছেন, আবার কেউ ছোটখাটো ব্যবসা বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন।
তরুণদের অভিযোগ, চাকরির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা চাওয়া হয় বেশি, কিন্তু নতুনদের জন্য সুযোগ থাকে কম। অনেক প্রতিষ্ঠান দক্ষ জনবল খুঁজলেও বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের অভাবে চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাও হতাশা বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন অনেক চাকরিপ্রার্থী।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, প্রযুক্তি, কারিগরি দক্ষতা ও উদ্যোক্তা তৈরির দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। আইটি, ফ্রিল্যান্সিং, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্টার্টআপ খাতে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো গেলে বেকারত্ব অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন বেকার থাকার কারণে অনেক তরুণ মানসিক চাপে পড়ছেন, যা পরিবার ও সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন ও তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
প্রশ্ন থেকেই যায়—দেশের তরুণরা কি তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান পাবে, নাকি বেকারত্বই তাদের স্বপ্নের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে থাকবে?
মন্তব্য করুন