পঞ্চগড় প্রতিনিধি পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে পুশইনের ঘটনায় উভয় পক্ষ কোন সিদ্ধান্তে না পৌছায় দ্বিতীয় দিনের মত ভেস্তে গেছে পতাকা বৈঠক। জেলা সদরের হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি এলাকার ভারতীয় শুন্যরেখার জমির আইলেই এখনও পর্যন্ত অবস্থান করছে তিন শিশু, দুই নারীসহ ১০ জন। দিনের প্রখর রোদ আর রাতে বৃষ্টির পানিতে ভিজে অমানবিকভাবেই তারা পড়ে রয়েছে শুন্যরেখায়।
বিজিবি ও সীমান্তের লোকজন জানান, গত বৃহস্পতিবার ভোর রাতে পঞ্চগড় উপজেলা সদরের হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮ এর ৫ নং সাব পিলার এলাকা দিয়ে ওই ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। ওইদিনই সীমান্তের উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে কয়েক দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোন সুরাহ হয়নি। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩৬ ঘন্টা ধরে নারী ও শিশুদের নিয়ে দুই পরিবারের ১০ জন খোলা আকাশের নিচে অমানবিক অবস্থান করছেন। রাতে বৃষ্টি আর প্রচন্ড বজ্রপাতের সময়েও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কাদা-পানির মধ্যেই শুয়ে বসে ছিলেন। কোন দেশের পক্ষ থেকে তাদের খাবার ও পানির ব্যবস্থাও করা হয়নি। সাথে করে যা এনেছিলেন তা দিয়ে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন তারা। বিএসএফের এমন নির্মম ও অমানবিক আচরণে ক্ষুব্ধ সীমান্তের বাংলাদেশ প্রান্তের লোকজন। বিজিবির বাধায় তাদের কাছে যেতে, পানি বা কোন খাবার দিতেও পারেননি স্থানীয়রা। ক্ষুধার্ত শিশুসহ নারীরা খোলা মাঠে জমে থাকা কাদা মাখা নোংরা পানি খেয়েই বেঁচে আছেন বলে জানান পুশইনের শিকার আব্দুস সালাম।
এ ঘটনায় সীমান্তের উভয় পাশে বিএসএফ-বিজিবি মুখোমুখি অবস্থান দেখা গেছে। অজানা আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয় সীমান্তবাসীদের। শুক্রবার বিকেলে বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সুরুজ মিয়া, নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংকট নিরসনে শনিবার দুপুরের বিজিবি-বিএসএফ এর মধ্যে আবারও পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বড়বাড়ি প্রধান পাড়া সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ নারী পুরুষসহ দশজনকে রাতের আঁধারি পুশইন এর চেষ্টা করে বিএসএফ। এ নিয়ে আজ (শনিবার) দুপুরে আমরা বিএসএফের সাথে আবারও বৈঠক করেছি।
ভারতের ৯৩ বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা বাংলাদেশের নাগরিক, এজন্য তারা তাদেরকে ফেরত নিতে চান না। তবে আমরা বলেছি যে, তারা যদি বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও থাকেন, তাহলে আন্তর্জাতিক আইন মেনে প্রপার চ্যানেলে আপনারা পাঠান। এভাবে রাতের অন্ধকারে পাঠানো হলে আমরা তাদেরকে কোনোভাবেই রিসিভ করব না। তারা বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের মধ্যেও খোলা মাঠে অবস্থান করছে। এটা একটা অমানবিক ঘটনা। শেষমেষ আর তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আমাদের জানাতে চেয়েছেন।
মন্তব্য করুন