মুহাম্মদ এমরান লামা(বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা উপজেলার কুমারী পুলিশ ক্যাম্পের চৌকস কর্মকর্তা জামিল আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ধর্ষণচেষ্টা ও শিশু অপহরণ মামলার এক আসামিকে মামলার মাত্র ৫ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড বাঁশখাইল্লাঝীরি এলাকায় এক বিধবা নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লামা থানায় মামলা দায়ের করা হলে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই কুমারী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জামিল আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম মাঠে নামে।
পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে শনাক্ত করে। বৃষ্টিতে ভিজে দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় রাতের আঁধারে প্রায় ৪-৫ কিলোমিটার হেঁটে অভিযান চালিয়ে মামলার মাত্র ৫ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় এই চৌকস অফিসার। এসময় পুলিশের সাথে থেকে সহযোগিতা করেন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার মোঃ আলী আকবর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুত সময়ে আসামি গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের এমন তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কুমারী পুলিশ ক্যাম্পে আইসি জামিল আহমেদ যোগদানের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর এলাকায় পুলিশের টহল বৃদ্ধি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার কারণে বদলে গেছে পুরো এলাকার চিত্র।
এ বিষয়ে কুমারী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জামিল আহমেদ বলেন, মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে আমার ফোর্স নিয়ে আমরা তৎপরতা বাড়াই। “নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা অভিযান শুরু করি এবং (১২ জুন) রাত ১.১০ ঘটিকার সময় লামা থানাধীন ৩ নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ড বনফুর বড়পাড়া বাঁশখাইল্লাঝীরি মুসলিম পাড়া থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে অপরাধ দমনে এমন কার্যকর ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিধবা নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা ও শিশু অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে নাছিরকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেন লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল। তিনি বলেন, গ্রেফতার নাছিরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
মন্তব্য করুন