মুহাম্মদ এমরান লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি
পার্বত্য বান্দরবানের লামায় পারিবারিক কলহ মেটাতে গিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন এক প্রতিবেশী নারী। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ধারালো দা’র আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড শামুকছড়া নামক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ফয়েজ দম্পতির মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিনও তাদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে যান পাশের বাড়ির মর্তুজা বেগম নামক এক নারী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই নারী উভয় পক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অভিযুক্ত ফয়েজ। একপর্যায়ে তিনি ঘর থেকে একটি ধারালো দা এনে ওই নারীর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে তার শরীরের গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন।
আহতের চিৎকারে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসা এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, আহত নারীর শরীরে গভীর জখম রয়েছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
খবর পেয়ে কুমারী পুলিশ ক্যাম্পের আইসি চৌকস অফিসার জামিল আহমেদ এর নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্ত ফয়েজকে আটক করে লামা থানায় নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সামান্য পারিবারিক বিরোধ এত বড় সহিংসতায় রূপ নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
এমন প্রাকৃতিক দূর্যোগের মধ্যে অল্প সময়ের ভিতর অভিযুক্তকে আটক করে প্রশংসায় ভাসছেন কুমারী পুলিশ ক্যাম্পের আইসি জামিল আহমেদ। কয়েকদিন আগেও বৃষ্টির মধ্যে দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ৬কিলোমিটার হেঁটে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে এই চৌকস অফিসার। আইসি জামিল আহমেদ কুমারী পুলিশ ক্যাম্পে জয়েন করার পর থেকে একের পর এক সফল অভিযানে ডাকাত দলের সদস্যদের আটক করে বন্ধ করেছে ডাকাতি।
এবিষয়ে কুমার পুলিশ ক্যাম্পের আইসি জামিল আহমেদ বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা অভিযান পরিচালনা করে আসামিকে আটক করেছি। মহিলার পক্ষ থেকে এখনো মামলা দেয়নি। তারা সবাই হাসপাতালে। আপাতত ফয়েজকে ৫৪ আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে জানতে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ এর নাম্বারে কল দিলে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকাই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন