মুহাম্মদ এমরান লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে বান্দরবানের লামা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার নিচু অঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ কার্যত ঘরবন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবারের বসতঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও কোথাও ঘরের মেঝে ছাড়িয়ে পানি উঠায় পরিবারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লামা পৌর এলাকা, আজিজনগর, ফাঁসিয়াখালী, সরই, রূপসীপাড়া ও আশপাশের নিম্নাঞ্চল। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে বসতবাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সড়ক এবং কৃষিজমি। অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বাজারে পানি ঢুকে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি খুব কমই দেখা গেছে। অনেক পরিবার ঘরে আটকা পড়ে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটে পড়েছেন। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে রয়েছেন স্বজনরা।
এদিকে টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সতর্ক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রশাসন ও স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে উপজেলার আজিজনগরে পাহাড়ধসের ঘটনায় ৫ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়ায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
বন্যার কারণে অনেক স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্কেও বিঘ্ন ঘটেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কর্মজীবী মানুষ কাজে যেতে পারছেন না, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমও বিঘ্নিত হচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে দুর্গত মানুষের দাবি, দ্রুত ত্রাণ, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা নিরসন, নদী-খাল পুনঃখনন এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
আবহাওয়া অনুকূলে না এলে এবং বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ফলে লামাজুড়ে এখন আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা আর দুর্ভোগই যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৪০০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।
সতর্ক অবস্থানে রয়েছে লামা উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন