বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, চিকিৎসক স্বল্পতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র সরকারি ভরসা এই হাসপাতালটি নানা সংকটে জর্জরিত থাকায় প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।
১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বাকেরগঞ্জ উপজেলার মানুষের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগী কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না।
গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বাধ্য হয়ে বরিশাল কিংবা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে, এতে সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই বাড়ছে দুর্ভোগ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ৫০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধনের আট বছর পার হলেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় সেটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে হাসপাতালটি এখনো ৩০ শয্যার কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নেন। এছাড়া আবাসিক ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। কিন্তু শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকেই হাসপাতালের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে অনেক বৈদ্যুতিক পাখা ও লাইট বিকল রয়েছে। তীব্র গরমে রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালটিতে জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে রাতের বেলায় রোগীদের অন্ধকারে থাকতে হয়।
হাসপাতালের আলট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে মেশিন প্রায় তিন বছর ধরে অচল থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অন্যদিকে হাসপাতালের তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে দুটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে জরুরি রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠাতে রোগীর স্বজনদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৪০টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৮ জন। শূন্য রয়েছে ২২টি পদ। ৩৯টি নার্স পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৩৪ জন, শূন্য রয়েছে ৫টি পদ।
মন্তব্য করুন