রিপোর্টার শাফায়েত হোসেন
নিজের জমি ও বসতবাড়িতে প্রবেশ করতে পারছেন না—এমন অভিযোগ করেছেন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের পাঁচালিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী কমলা বেগম।
কমলা বেগমের অভিযোগ, তার পৈতৃক ও মায়ের কাছ থেকে পাওয়া জমি এবং বসতবাড়ি দখলে নিয়ে তাকে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িছাড়া করে রেখেছেন তার আপন ভাই দুলাল চৌকিদার ও হারুন চৌকিদার। এ ঘটনায় একাধিকবার থানায় অভিযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি বলেও দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী কমলা বেগম জানান, তার মা সামিরুন্নেসা তাকে ১২ শতাংশ জমি দলিল করে দেন। পরবর্তীতে তার এক ভাই মারা যাওয়ার পর আরও ১২ শতাংশ জমি তার অংশে আসে বলে দাবি করেন তিনি। স্বামী ও সন্তানদের অকালমৃত্যুর পর বর্তমানে তিনি একাকী জীবনযাপন করছেন।
কমলা বেগমের ভাষ্য, তার একাকীত্বের সুযোগ নিয়ে তাকে জমি অন্যদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ছোট বোন হালিমা বেগম তার পক্ষে কথা বলতে গেলে তাকেও মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। বর্তমানে দুই বোনকেই ওই বাড়িতে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তবে ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না বলে দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেও কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। সাবেক ইউপি সদস্য জয়নাল, মহিলা ইউপি সদস্য রেহেনা বেগম এবং বর্তমান ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুর ইসলাম হাওলাদারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের বক্তব্যেও পারিবারিক বিরোধ ও এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে নানা অভিযোগের কথা উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এদিকে, দুলাল চৌকিদার ও হারুন চৌকিদারের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তদের বক্তব্যও এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা জরুরি।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে কথা বলার কারণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অন্যদের বিরুদ্ধেও মামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। ফলে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন।
কমলা বেগম আরও জানান, প্রায় সাত বছর ধরে তিনি তার বাবা-মায়ের কবর পর্যন্ত দেখতে যেতে পারছেন না। নিজের জমি ও বাড়িতে ফিরতে না পেরে তিনি বর্তমানে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কমলা বেগম প্রশাসন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং তার সম্পত্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তার দাবি, তিনি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে ন্যায়বিচার চান। জমির প্রকৃত মালিকানা, দখল এবং হামলা-হয়রানির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তিনি ।
মন্তব্য করুন