মোঃ হিমেল হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ধর্মপুর গোয়ালভিটা হোসেনিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেন আদালতের রায় পাওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব গ্রহণ করতে না পারার অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, যোগদানে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছে।
বদলগাছী উপজেলার ডাকবাংলো মোড় এলাকার একটি রিসোর্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে সৃষ্ট পরিস্থিতির পর তাঁকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তিনি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত তাঁকে নিজ পদে যোগদান এবং প্রাপ্য বেতন-ভাতা প্রদানের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলও খারিজ হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মাদ্রাসায় যোগদান করতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় তিনি একাধিক মামলা দায়ের করেছেন, যার কিছু এখনো বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মচারীকে দায়িত্বে পুনর্বহাল করার বিধান থাকলেও এখন পর্যন্ত তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এতে আদালতের রায় বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে বলে তাঁর দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে আদালতের নির্দেশ দ্রুত কার্যকর এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমানুল্লাহ আমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি সত্য নয়। তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই সাবেক অধ্যক্ষকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুল করিমের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা পড়েনি। কাগজপত্র পেলে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন