মানছুর রহমান জাহিদ, পাইকগাছা, খুলনা
বৈরী আবহাওয়া ও টানা ২ দিনের বৃষ্টিতে যেন জনজীবন বিপর্যস্ত ও চরম বেকায়দায় পড়েছে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার নিম্ন আয়ের মানুষেরা।
গত কয়েকদিন ধরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার পর একটানা বৃষ্টিপাতে চরম বিপাকে পড়েছেন এ উপজেলার স্থানীয় খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গত ২ দিন ধরে চলা মুষলধারে এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট যেন ফাঁকা হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। ফলে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন দিনমজুর, ভ্যানচালক, মৎস্যজীবী ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। প্রতিদিনের উপার্জনের ওপর যাদের সংসার চলে, টানা বৃষ্টির কারণে বাইরে বের হতে না পারায় তারা চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন দিনমজুর ও ভ্যানচালকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৃষ্টি ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে রাস্তায় মানুষ একপ্রকার নেই বললেই চলে। একদিকে যেমন কাজের সুযোগ মিলছে না, অন্যদিকে ভ্যান-ইজিবাইক নিয়ে বের হলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত যাত্রী। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঘোরার গাড়ি চালক জানান, আমরা ঘোরার গাড়িতে ইট ও বালু বহন করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। একটানা বৃষ্টির কারণে আমরা সেই কাজ করতে পারছি না। কারন এখন বালু ভিজে অনেক ভারি হয়ে গেছে এবং ইটের ভাটার রাস্তা গুলো কাচা থাকায় সেখানেও নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না গাড়ি। এতে করে আমাদের সংসার চালানো দুস্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভ্যান চালক রাজু বলেন, সংসারের ৫ জনের মুখে অন্য তুলে দিতে হয় ভ্যান চালিয়েই। তাই বৃষ্টি মাথায় বের হতে হয় ভ্যান চালাতে। কিন্তু বের হয়েও হচ্ছে না ইনকাম। কারন টানা বৃষ্টির কারনে মানুষ ঘর থেকে বাইরে বের হচ্ছে কম। যার ফলে ভ্যানে যাত্রীও মিলছে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে হয়তো ২/১ জন। এই ভাবে চলতে থাকলে হয়তো ভ্যানটিই বিক্রি করে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।
এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার নিচু এলাকাগুলো এবং কিছু কিছু চিংড়ি ঘের ও ফসলি জমিও জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এভাবে আরও দু-একদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতিসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন