স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দুর্গাপুর গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে। ৬ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও পাকা সড়কের অভাবে এখন সমতল ভূমির সাথে মিশে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে কয়েক যুগ আগেই। বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কের উপর বাঁশ ও গাছ দিয়ে তৈরি সাঁকোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ছয় গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে সড়কটির বিভিন্ন অংশে পানি জমে কাদা ও পিচ্ছিল হয়ে যায়। কোথাও কোথাও সড়কের অস্তিত্বও বোঝা যায় না। সড়কটির কোথাও কোথাও বড় বড় ভাঙ্গন হয়ে খালি পরিণত হয়েছে। আর সেই সব বড় ভাঙ্গন স্থানে স্থানীয়রা সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করছে। যানবাহন চলা তো দূরের কথা মানুষ পায়ে হেটে চলাচল করাই এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, নারী ও অসুস্থ রোগীদের চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে উপজেলা সদর বা হাসপাতালে যেতে হলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির অধিকাংশ স্থানই এখন সমতল ভূমির সাথে মিশে গলা পর্যন্ত পানিতে ডুবে রয়েছে। নিরুপায় হয়ে এই সড়ক দিয়েই ইউনিয়নের বড় রঘুনাথপুর, ছোট রঘুনাথপুর, সাকবুনিয়া, ট্যাংরাখালী, দুর্গাপুর, পুয়াউটা ও পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন নিয়ামতির রামনগর এই ছয় গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন চলাচল করছে। এছাড়াও গাজিরহাট বাজার, নুরনগর বাজার, এম পি বাজার সহ পুয়াউটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুয়াউটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রঘুনাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রঘুনাথপুর এম. এ. মালেক কলেজ সহ জেলা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাজারো শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। বৃষ্টির সময় সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। অনেক সময় ভয়ে অভিভাবকরাও সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না। স্থানীয় কৃষকদেরও পড়তে হচ্ছে নানা সমস্যায়। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে সময় ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুস আলী অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি উন্নয়নের দাবি জানিয়ে এলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে নিজেদের উদ্যোগেই বাঁশ ও গাছ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে কোনো রকমে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছেন এলাকাবাসী। স্বাধীনতার এত বছর পরও আমাদের এলাকায় ভালো একটি সড়ক হয়নি। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেকেই পড়ে আহত হয়েছেন। আমরা দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও পাকা করার দাবি জানাই।
এলাকাবাসীর দাবি, ছয় গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নকাজ শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশ ও গাছের সাঁকোর পরিবর্তে স্থায়ী সড়ক নির্মাণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও যেখানে একটি চলাচলযোগ্য সড়ক নিশ্চিত হয়নি, সেখানে উন্নয়নের সুফল থেকে তারা আর কতদিন বঞ্চিত থাকবেন? দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চান ভুক্তভোগী ছয় গ্রামের মানুষ।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী হাসনাইন আহমেদ জানান, পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দুর্গাপুর সড়কটির সরেজমিন পরিদর্শন করে যেকোনো একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কার করা হবে।
মন্তব্য করুন