বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজে ধীরগতির কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পৌর কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক বছর আগে সংস্কারকাজ শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। এরই মধ্যে দুটি সড়কের কালভার্ট ভেঙে নতুন নির্মাণকাজ শুরু করায় এবং বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না করায় তিনটি সড়কেই যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরসভার তিন ওয়ার্ডসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, বাকেরগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সিটিসিআরপি প্রকল্পের প্যাকেজ-আরডি-২-এর আওতায় তিনটি সড়ক ও ছোট-বড় ছয়টি কালভার্ট নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটির কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স প্রতিষ্ঠানটির ঠিকাদার বাবুল খান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাকেরগঞ্জ-পটুয়াখালী মহাসড়কের চৌমাথা থেকে বারাইপাড়া সড়কটি কালিগঞ্জ বাজার হয়ে বাকেরগঞ্জ-বরগুনা আঞ্চলিক সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। চৌমাথা থেকে কালিগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সড়কের দুই পাশে মাটির কাজ করে প্রায় এক বছর ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। বর্ষার পানিতে বিভিন্ন স্থানে কাদামাটি জমে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এই সড়কের বারাইপাড়া মন্দিরসংলগ্ন খালের ওপর থাকা পুরোনো কালভার্টটি প্রায় দুই মাস আগে ভেঙে নতুন কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি।
সবচেয়ে বড় অভিযোগ, যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য কোনো বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে সড়কটিতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে রুহিতার পাড় সড়কের দুই পাশে মাটির কাজ করে ফেলে রাখা হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে সড়কজুড়ে কাদামাটি ও ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একই কারণে সড়কটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
বটতলা হয়ে তালুকদার বাড়ি সড়কের কিছু অংশে সংস্কারকাজ করা হলেও বাকি অংশ এখনো পড়ে রয়েছে। এ সড়কেও একটি কালভার্ট নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে তিনটি সড়কেই যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।
পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৌরভ বলেন, প্রায় দুই মাস আগে বারাইপাড়া মন্দিরসংলগ্ন খালের ওপরের পুরোনো কালভার্টটি ঠিকাদার ভেঙে ফেলেছেন। নতুন কালভার্টের কাজও এখনো শুরু হয়নি। এতদিন পার হলেও বিকল্প কোনো সড়ক তৈরি করা হয়নি। ফলে এ সড়ক দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ সহ ঠিকাদারকে বারবার অবহিত করা হলেও বিকল্প সড়ক নির্মাণে কোন উদ্যোগ তারা নেয়নি। এতে পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডসহ পাশের ভরপাশা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকরা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার বাবুল খান বলেন, বর্ষার কারণে তিনটি সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণকাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। কালভার্টের পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হবে। বর্ষা কমলেই সড়কের নির্মাণকাজও শুরু করা হবে।
বাকেরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন বলেন, কালভার্ট নির্মাণকাজ শুরুর আগেই ঠিকাদারকে বিকল্প সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিকল্প সড়ক নির্মাণ এবং সড়ক সংস্কারকাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পালকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিকল্প সড়ক নির্মাণ করে যানবাহন ও মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করা হোক। অন্যথায় বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
মন্তব্য করুন